মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর ঃ
ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাধীন ০৬ নং রাওনা ইউনিয়নের “জব্বার নগর” (পাচুয়া) গ্রামে ভাষা শহীদ আঃ জব্বারের নিজ বাড়ীর নিকটে শহীদ জব্বার বেসরকারী রেজিষ্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শহীদ মিনারের পার্শ্বের জমিতে ২০০৭ সালে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মান করা হয়েছে। এটি গফরগাঁওয়ের একটি দর্শনীয় স্থান।

কালুশাহ বা কালশার দীঘি ঃ
ষোড়শ শতকে সেকান্দর শাহের ছেলে ফরিদ শাহের ছোট ভাই কালুশাহ মাইজবাড়ীতে তার বাড়ীর সামনে প্রায় চৌদ্দ একর জমি জুড়ে একটি পুকুর খনন করেন।  এটাই কালুশাহর দীঘি নামে পরিচিত। ইহা এখনও পূর্বাবস্থায় বহাল রয়েছে। কালুশাহ উস্থি ইউনিয়নের বড়বাড়ীতে ২টি দূর্গ স্থাপন করেছিলেন এবং  দিল্লির সুলতানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষনা করেছিলেন বলে শোনা যায়। এতে  দিল্লির সুলতানের সৈন্যদের সাথে এক ভীষন যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে কালুশাহ পরাস্ত হন ও তার মাথা কেটে সুলতানের সৈন্যগণ দিল্লি নিয়ে যায়। মাথাহীন দেহ  পুকুরের পূর্ব পাড়ে সমাহিত করা হয়।

দুই সতীনের দীঘি ঃ  
এ উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের ফুকসাইর (মাইজবাড়ী) গ্রামে দুই সতীনের দীঘিটি অবস্থিত। কথিত আছে যে, কালুশাহের ভাগ্নে জমজম খাঁ এর দুই স্ত্রী ছিল। তিনি দুই স্ত্রীর মনোরঞ্জন তথা মন রক্ষার্থে পাশাপাশি দুইটি দীঘি খনন করেছিলেন। এই দুটি দীঘি দুই সতিনের দীঘি নামে পরিচিত।

কলের দীঘি ঃ
১৮৮৬ সালে ইস্ট বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ের গফরগাঁওয়ের স্টেশনের সংলগ্ন রেলওয়ে বিভাগ  রেল ইঞ্জিনে পানি ব্যবহার করার জন্য একটি পুকুর খনন করে। বর্তমানে এই পুকুরটির দক্ষিন পাশের কিছু অংশ মসজিদের দখলে ভরাট করা হয়েছে ।

 নিশাই সরকারের পুকুর ঃ
ভালুকা থানাস্থিত নিশাইগঞ্জের নিশাই সরকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন এক একর জায়গা জুড়ে পুকুরটি খনন করেন।

পাঁচবাগ জামে মসজিদ ঃ
মৌলভী ক্বারী রেয়াজ উদ্দিন সাহেব ১৯২১ সালে পাঁচবাগ আলিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করেন। মাদ্রাসা সংলগ্ন তিন ওষ্ঠব বিশিষ্ট একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন। সূর্য লাল বিশিষ্ট পুর্ব দেয়ালে ৩টি দরজা ও পশ্চিম দেয়ালে একটি দরজা আছে। গম্ভুজের উপরিভাগে কলসি সদৃশ্য ফিনিয়েল নির্মিত হয়েছে ও পদ্মপাপড়ি দ্বারা সাজানো হয়েছে।  

শাহ মিসকিন শাহের দরগাহ ঃ
হযরত শাহ জালাল যখন শ্রীহটে আসেন তখন তার সঙ্গে শাহ মিসকিন শাহ  নামে একজন সহচর ছিলেন। তিনি গফরগাঁও থানার মূখী ও তার পার্শ্ববর্র্তী এলাকা সমুুহে ধর্ম প্রচার করার জন্য শাহজালাল (র:) কর্তৃক আদিষ্ট হন এবং এখানেই তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।  এখানে তার মাজার শরীফ আছে। শাহ মিসকিনের মাজারে প্রতিবছর ওরস শরীফ অনুষ্ঠিত হয় ও মেলা বসে।

পাঁচুয়া গরিবুল্লাহ শাহের মাজার ঃ
তিনি টাংগাইলের কোন এক পল্লীতে জন্ম গ্রহণ করেন।  অল্প বয়সে তিনি মারেফাতে দীক্ষা নেন। প্রথমে তিনি মদনপুর শাহ কমরউদ্দিন রুমী শাহ এর মাজারে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে তিনি মুখী শাহ মিছকিন এর মাজারে সাধনা করেন। পরবর্তী সময়ে পাঁচুয়া গ্রামে ইহধাম ত্যাগ করেন। তাঁর মাজারের ভুমিটুকু মুক্তাগাছার জমিদার নিস্কর করে দিয়েছিলেন।

মাইজবাড়ী কালু শাহ এর মাজার ঃ
কথিত আছে যে ফরিদ শাহ, কালু শাহ ও মানিক শাহ তিন ভাই ছিলেন। ফরিদ শাহ এর আস্থানা ছিল দত্তের বাজার ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রাম ও সেখানে একটি পুকুর খনন করেন। কালু শাহ ধর্ম প্রচারক ছিলেন। তিনি প্রায় ২০ একর জমি ব্যাপী একটি পুকুর খনন করান । কালে দিল্লির সুলতানের অধীনতা অস্বীকার করেন, ফলে দিল্লির সুলতানের সাথে তাঁর সংঘর্ষ বাজে এতে তিনি নিহত হন। তাঁর মাথা বিহীন দেহটি পুকুরের পূর্বপাড়ে সমাহিত করা হয়। ইহা বর্তমানে একটি মাজারে পরিণত হয়েছে। বছরে একবার ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।